আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় বাংলাদেশের জামাতিরা বেশি লাফালাফি করছে: শুভেন্দু
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে বাংলাদেশের জামায়াতপন্থিরা বেশি অস্থির হয়ে উঠেছে। তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে সীমান্ত সুরক্ষা আরও জোরদার করা হবে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর এলাকায় আয়োজিত এক ধন্যবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী জানান, সীমান্ত নিরাপদ রাখা, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার।
তিনি বলেন, “তৃণমূল, কংগ্রেস কিংবা সিপিআইএম যতটা প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তার চেয়েও বেশি অস্বস্তিতে রয়েছে বাংলাদেশের জামায়াতপন্থিরা। তবে আমি ভয় পাই না, মাথাও নত করি না।”
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকায় থাকা অ-ভারতীয়দের শনাক্ত করা হয়েছে এবং অনেকের নাম ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। এখন তাদের ফেরত পাঠানোর সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায়ও কঠোর অবস্থানের কথা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে সরকার কঠিন ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি আসানসোলে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধর্মীয় ভিত্তিতে দেওয়া বিভিন্ন ভাতা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সরকারের দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ভাতা দেওয়া নয়; বরং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তিনি জানান, ভাতার জন্য বরাদ্দ অর্থ এখন ‘বিবেকানন্দ মেধাবৃত্তি’ প্রকল্পে ব্যয় করা হবে, যাতে সব ধর্মের শিক্ষার্থীরা সমানভাবে উপকৃত হতে পারে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—দুই আসনেই জয় পান শুভেন্দু অধিকারী। ভবানীপুর আসনে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
