পশ্চিমবঙ্গে বন্ধ হলো ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০১:৫০ এএম

সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রকল্প ধাপে ধাপে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার (১৮ মে) মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সাংবাদিকদের জানান, চলতি মাস পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর সুবিধা কার্যকর থাকবে। তবে আগামী মাস থেকে এসব প্রকল্প আর চালু থাকবে না।

তিনি বলেন, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের অধীনে ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে যেসব অনুদান ও সহায়তা দেওয়া হতো, সেগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা পরে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত আসায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের আগে কর্মসংস্থান ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সেই প্রেক্ষাপটে ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যেই এই নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হলো।

জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

এর ফলে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা মাসিক ভাতা প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগে এসব প্রকল্পের আওতায় মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হতো, যা পরে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই ধরনের ধর্মভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রকল্পকে ‘পক্ষপাতমূলক’ ও ‘ভোটকেন্দ্রিক সুবিধা বিতরণ’ হিসেবে সমালোচনা করে আসছিল। কেউ কেউ একে ‘রেউরি সংস্কৃতি’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখন ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে ভিন্ন প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তিতে সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করার পথে হাঁটছে। এ সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top