ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র,গোপন নথি ফাঁস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০১:৪৫ এএম

সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল—এমন অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গোপন নথি এবং একাধিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, ২০২২ সালে তার সরকারের পতনের ঘটনায় ওয়াশিংটন ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সমর্থন ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যে হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ইমরান খানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ট্রাম্প নাকি বলেন, “ইমরান খানের মুক্তির দাবির বিষয়টি সমাধান করতে হবে।”

সূত্রগুলোর দাবি, ওই বৈঠকে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে পাকিস্তানি-আমেরিকান ভোটাররা তার নির্বাচনী জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং তাদের একটি বড় অংশ ইমরান খানের মুক্তির পক্ষে অবস্থান নেয়।

আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ সমর্থিত প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেলেও সামরিক বাহিনীর প্রভাবের কারণে ফলাফল পরিবর্তিত হয় এবং ক্ষমতায় আসে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো।

এদিকে ইমরান খানের পরিবার ও প্রবাসী সমর্থকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন এবং তার বাইরের যোগাযোগ সীমিত বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়, বাইডেন প্রশাসন ইমরান খানের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ইস্যুতে নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। সাংবাদিক রায়ান গ্রিম ও মুর্তজা হুসেনের প্রকাশিত একটি কূটনৈতিক বার্তায়ও দাবি করা হয়, ইমরান খান ক্ষমতায় থাকলে যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়েছিলেন মার্কিন কূটনীতিকরা।

এর কিছু সময় পরই পাকিস্তানের পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা হারান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top