ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিপাকে ইরাক, তেল রপ্তানিতে বড় ধস

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:২৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরাকের তেল রপ্তানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বীমা জটিলতায় তেলবাহী জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশটির জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

শনিবার (১৬ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে ইরাকের নতুন তেলমন্ত্রী বসিম মোহাম্মদ জানান, এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালি হয়ে দেশটি মাত্র ১ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে পেরেছে। অথচ ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি মাসে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হতো।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক ট্যাংকারকে অনুমোদন দিচ্ছে না। ফলে তেলবাহী জাহাজের চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও।

তেলমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ইরাক দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে। তবে উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়াতে সরকার নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে।

বাগদাদ সরকার ও কুর্দিস্তান আঞ্চলিক প্রশাসনের সমঝোতার পর মার্চ মাসে কিরকুক-জেইহান পাইপলাইন দিয়ে পুনরায় তেল রপ্তানি শুরু হয়েছে। বর্তমানে তুরস্কের জেইহান বন্দর হয়ে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি ৫ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে তেল ও গ্যাস খাতে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে তুরস্কের সঙ্গে একাধিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি শেভরন, এক্সনমোবিল ও হ্যালিবার্টনের মতো মার্কিন কোম্পানির সঙ্গেও জ্বালানি প্রকল্প উন্নয়নে আলোচনা করছে ইরাক।

বসিম মোহাম্মদ বলেন, ওপেকের সঙ্গে আলোচনা করে ইরাক উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা আরও বাড়াতে চায়। দেশটির লক্ষ্য দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করা।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওপেক বা ওপেক প্লাস জোট ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা ইরাকের নেই। বরং স্থিতিশীল তেলের বাজার ধরে রাখতে শক্তিশালী ওপেক ব্যবস্থার পক্ষেই রয়েছে দেশটি।



বিষয়:



Top