বাংলাদেশ–নেপাল বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করবে ‘নেপাল উৎসব ২০২৬’

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ১১:১৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
 

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নেপাল উৎসব ২০২৬’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত এ উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপালের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর বন্ধনে গড়ে উঠেছে। ভৌগোলিক সীমারেখা আলাদা হলেও দুই দেশের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আতিথেয়তার চেতনা আমাদের এক অভিন্ন বন্ধনে যুক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতার বাস্তবতার বিপরীতে সংস্কৃতি হতে পারে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবিক সংযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। বৈচিত্র্য কখনো বিভেদের কারণ নয়; বরং তা সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা ও ঐক্যের শক্তি হিসেবে কাজ করে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক আয়োজন দুই দেশের জনগণের মধ্যে বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

নেপালের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় নেপালের সঙ্গে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা, যুব বিনিময় এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

ঢাকাস্থ নেপাল দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীকে ধন্যবাদ জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী। একই সঙ্গে উৎসব আয়োজনে যুক্ত দুই দেশের শিল্পী, পরিবেশক, রন্ধনশিল্পী ও আয়োজকদেরও অভিনন্দন জানান তিনি।

তিনি বলেন, এ উৎসবের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ নেপালের ঐতিহ্যবাহী রন্ধনশিল্প, সংগীত, নৃত্য ও বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উৎসবের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন।



বিষয়:



Top