তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পকে কঠোর বার্তা শির, ‘ভুল পদক্ষেপে সংঘাত অনিবার্য’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping। তিনি বলেছেন, তাইওয়ান প্রশ্নে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত দুই দেশকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্পকে এ বার্তা দেন শি জিনপিং। পরে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাইওয়ান ইস্যুই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়।

প্রায় দুই ঘণ্টা ১৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে শি বলেন, “এই বিষয়টি ভুলভাবে মোকাবিলা করা হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। এতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে চলে যাবে।”

বৈঠকে গ্রিক রাজনৈতিক তত্ত্ব ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’-এর প্রসঙ্গও তোলেন চীনের প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষায়, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি তথাকথিত থুসিডাইডস ট্র্যাপ এড়িয়ে বড় শক্তিগুলোর সম্পর্কের নতুন উদাহরণ তৈরি করতে পারবে? সহযোগিতা উভয়ের জন্য লাভজনক, আর সংঘাত উভয়ের জন্য ক্ষতিকর।”

বিশ্লেষকদের মতে, ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ বলতে উদীয়মান শক্তি ও প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে যুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি হওয়াকে বোঝায়।

তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে চীন। এর আগে একাধিকবার দ্বীপটিকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে একীভূত করার কথা বলেছেন শি জিনপিং। অন্যদিকে সম্প্রতি তাইওয়ানের কাছে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনাও বাড়ছে।

শি জিনপিংয়ের বক্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইওয়ান। তাইপে চীনকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র বারবার তাইওয়ানের প্রতি তাদের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এর আগে সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

চীনা গণমাধ্যম বিশ্লেষক অ্যাডাম নি বলেন, চীনের পররাষ্ট্রনীতিতে কড়া ভাষা নতুন নয়। তবে শি জিনপিংয়ের মুখে এমন সরাসরি সতর্কবার্তা ব্যতিক্রমী। তাঁর মতে, তাইওয়ান ইস্যু বর্তমানে দুই পরাশক্তির মধ্যে ‘বারুদভর্তি ড্রাম’-এ পরিণত হয়েছে।

তবে কঠোর বার্তার মধ্যেও শি জিনপিংকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি শিকে “মহান নেতা” ও “বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে চমৎকার ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।

বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক Great Hall of the People-এ ট্রাম্পকে জাঁকজমকপূর্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সামরিক ব্যান্ড, তোপধ্বনি ও স্কুলশিক্ষার্থীদের স্বাগতধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। ট্রাম্প বলেন, “চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের চেয়ে আরও উন্নত হতে যাচ্ছে।”

গত এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বেইজিং সফর। তবে বর্ণাঢ্য আয়োজনের আড়ালেও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো রয়ে গেছে।

 
 
 


বিষয়:



Top