আপনি একজন মহান নেতা, আপনার বন্ধু হতে পারা সম্মানের: শি’কে ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:১৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি আলোচনায় বসেন। বৈঠকটি শুরু হয় অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে।

বৈঠকের শুরুতেই ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্টকে “মহান নেতা” হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাকে নিজের ব্যক্তিগত বন্ধু বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারা তার জন্য বড় সম্মানের বিষয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, অতীতে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা হলেও তারা সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করেছেন। তার ভাষায়, দুই পক্ষের সম্পর্ক জটিল হলেও আলোচনার মাধ্যমে সহজেই সমাধান সম্ভব হয়েছে।

এই বৈঠকে ট্রাম্প তার সঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের একটি বড় দল নিয়ে যান। তিনি শি জিনপিংকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তাকে সম্মান জানাতেই তিনি এই প্রতিনিধিদল নিয়ে এসেছেন।

ট্রাম্প এই সফরকে ইতিহাসের অন্যতম বড় শীর্ষ বৈঠক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিশ্ব পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অস্থির বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে এমন পরিবর্তন ঘটছে যা গত এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি।

শি জিনপিং দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, দুই দেশ কি পারস্পরিক বিরোধ এড়িয়ে নতুন ধরনের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে পারবে কি না।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াইশ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানান শি জিনপিং। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে মিল বেশি এবং সংঘাতের চেয়ে সহযোগিতাই বেশি লাভজনক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে মূল গুরুত্ব থাকবে বাণিজ্য ইস্যুতে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র চায় চীন যেন তাদের কৃষিপণ্য, বিমানসহ বিভিন্ন পণ্য বেশি পরিমাণে ক্রয় করে।

অন্যদিকে, চীন তাদের বিরল খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

এছাড়া রাজনৈতিক ইস্যুতে ইরানকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top