সেমিকন্ডাক্টরের রাসায়নিক সরবরাহ করেই শতকোটিপতি চীনের দুই ভাই

আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

ছবি: সংগৃহীত
 

চীনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে স্বনির্ভরতার দৌড়ে নতুন ধনকুবের হিসেবে উঠে এসেছেন দুই ভাই ঝু শুয়াংচুয়ান ও ঝু শুনচুয়ান। চিপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক উপকরণ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হুবেই ডিংলংয়ের শেয়ারের দাম এক বছরে প্রায় ১১৬ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় তারা এখন শতকোটিপতিদের কাতারে।

উহানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিংলং সরাসরি চিপ তৈরি না করলেও চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ও উপকরণ তৈরি করে থাকে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ৬১ বছর বয়সী ঝু শুয়াংচুয়ান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ৫৭ বছর বয়সী ঝু শুনচুয়ান। কোম্পানিতে দুই ভাইয়েরই প্রায় ১৫ শতাংশ করে মালিকানা রয়েছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি ডলার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের পর থেকেই দেশটি সেমিকন্ডাক্টর খাতে স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার করে। সেই সুযোগেই দ্রুত এগিয়ে যায় ডিংলং।

চিপ উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘কেমিক্যাল মেকানিক্যাল পলিশিং’ বা সিএমপি প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করে ডিংলং। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্লারি’ নামে পরিচিত আধা তরল রাসায়নিক, যা সিলিকন ওয়েফারের পৃষ্ঠ সমতল করতে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি পরিষ্কারকরণে ব্যবহৃত বিশেষ তরলও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটির দাবি, চীনে এই ধরনের পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই।

এছাড়া লিথোগ্রাফি প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত ‘ফটোরেজিস্ট’ নামের বিশেষ রাসায়নিকও উৎপাদন করছে ডিংলং। যদিও বর্তমানে তাদের পণ্য তুলনামূলক কম ক্ষমতার চিপ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং উপকরণ তৈরিতেও জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ ধরনের আঠা ব্যবহার করে সিলিকন ওয়েফারকে অত্যন্ত পাতলা করে উচ্চক্ষমতার মেমরি চিপ তৈরির প্রযুক্তি নিয়েও কাজ করছে তারা।

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডিংলংয়ের নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৮ শতাংশ এবং রাজস্ব বেড়েছে ২৪ শতাংশ। কোম্পানির ভাষ্য, তাদের সিএমপি উপকরণ ব্যবসাই এই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।

তবে ডিংলংয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতে। ২০০০ সালে দুই ভাই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন প্রিন্টার টোনারে ব্যবহৃত রাসায়নিক তৈরির মাধ্যমে। ধীরে ধীরে চীনের রঙিন প্রিন্টিং শিল্পে বড় সরবরাহকারী হয়ে ওঠে কোম্পানিটি। পরে ২০১২ সালে তারা সেমিকন্ডাক্টর উপকরণ খাতে প্রবেশ করে।

এক সাক্ষাৎকারে ঝু শুয়াংচুয়ান বলেছিলেন, ব্যবসার শুরুতে তাদের হাতে বড় পুঁজি ছিল না। ছিল শুধু নতুন কিছু করার ইচ্ছা এবং পিছিয়ে না যাওয়ার মানসিকতা। তার ভাষায়, “ডিংলং কখনোই এই উদ্যম হারাবে না। জয় করার জন্য আরও বড় বিশ্ব অপেক্ষা করছে।”

তথ্যসূত্র: ফোর্বস



বিষয়:



Top