মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ ইরান যুদ্ধ: শেখ হামাদ
আন্তজাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ মে ২০২৬, ০৪:৪৮ এএম
কাতারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হামাদ বিন জাসিম আল থানি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত কোনো আকস্মিক যুদ্ধ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
আল-জাজিরার একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই যুদ্ধের প্রভাব আগামী কয়েক দশক ধরে পুরো অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হবে। তার মতে, সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সংকট।
তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্ত করার চেষ্টা করে আসছেন এবং একে তিনি “বৃহত্তর ইসরায়েল” পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন।
শেখ হামাদ দাবি করেন, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী বহু বছর ধরেই ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে টানার চেষ্টা করছে। তার মতে, এবার নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছেন যে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং ইরানের সরকার ভেঙে পড়বে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নির্ভর নীতির সমালোচনা করে বলেন, আমেরিকার প্রকৃত শক্তি ছিল সংঘাত এড়িয়ে চলার সক্ষমতায়, যুদ্ধ করার মধ্যে নয়।
তিনি বলেন, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
তার দাবি, শুরুতে সামরিক চাপ সামাল দেওয়ার পর ইরান বুঝতে পারে এই প্রণালীকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শেখ হামাদ বলেন, সবচেয়ে বড় হুমকি বাহ্যিক নয়, বরং অভ্যন্তরীণ বিভক্তি।
তিনি সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে উপসাগরীয় দেশগুলোর একটি যৌথ রাজনৈতিক ও সামরিক জোট গঠনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়ার পরামর্শ দেন।
গাজা যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু সব পক্ষের জন্যই দুঃখজনক। তবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে তিনি “নৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা” হিসেবে অভিহিত করেন।
তার দাবি, ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়তে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং এর বিনিময়ে অর্থের প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা ছাড়া নিরস্ত্রীকরণের আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনে স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, গৃহযুদ্ধের শুরুতেই তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছিলেন।
একটি পুরোনো কূটনৈতিক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নব্বইয়ের দশকে কাতারের পক্ষ থেকে তাকে তেহরানে পাঠানো হয়েছিল একটি বার্তা পৌঁছে দিতে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বলা হয়েছিল।
শেখ হামাদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকটের সমাধান যুদ্ধ নয়, বরং খোলা ও সম্মিলিত সংলাপ। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে, কারণ বৈশ্বিক শক্তির কৌশলগত অগ্রাধিকার ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হচ্ছে।
বিষয়:
