মার্কিন গোয়েন্দাদের পাত্তা দেননি, ইসরায়েলের কথাতেই ইরান যুদ্ধে জড়ান ট্রাম্প!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৬:৫১ এএম
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরুর আগে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন ছিল একেবারেই স্পষ্ট। তাদের মতে, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছিল না। পাশাপাশি ইরানে হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলেন গোয়েন্দারা।
তবে এসব সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী মহলের অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়েই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা একমত ছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না।
তার অভিযোগ, একটি বিদেশি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রচারণা ও কৌশলগত চাপ শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।
জো কেন্ট বলেন, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগেই আশঙ্কা করেছিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালালে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে দেশটির কট্টরপন্থি শক্তি আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে বলেও মূল্যায়ন দিয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
গত মার্চ মাসে নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেন জো কেন্ট। পদত্যাগপত্রে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরানবিরোধী যুদ্ধনীতির সমালোচনা করে বলেন, ইরান তখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না।
জানা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুতে গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।
এরপরই ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলও পৃথক সামরিক অভিযান চালায়। যৌথ হামলার প্রথম দফাতেই নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য।
একইসঙ্গে হামলায় নিহত হন দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অনেকে। ধ্বংস হয়ে যায় বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা। এসব হামলায় প্রাণ হারায় দুই হাজারের বেশি মানুষ।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা জবাব দেয় ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হয়।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনী ইরানের পক্ষে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর দুই পক্ষ সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতা হয়নি। ফলে অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা এখনও কাটেনি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
