যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ মে ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৮ মে) ইতালি সফরকালে তিনি জানান, তেহরানের কাছ থেকে খুব দ্রুতই জবাব পাওয়ার আশা করছে ওয়াশিংটন।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় অন্তত ৬০ দিনের আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে হামলা ও পাল্টা সামরিক অভিযানের মধ্যেই তেহরানের কাছে অন্তর্বর্তী চুক্তির প্রস্তাব পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আবারও সামরিক অভিযানে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, হরমুজ প্রণালীতে ইরানি ও মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি এখনও পর্যালোচনা করছে তেহরান এবং নিজেদের অবস্থান বিবেচনা করছে।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধ ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করা দুটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। একই রাতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে ইরান বলে দাবি করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হলেই যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান বাড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি এবং আলোচনার সুযোগ রয়েছে। যদিও দ্রুত সমঝোতা না হলে ইরানকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
