যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা, গ্রেপ্তার হিশামকে নিয়ে বেরিয়ে এলো গা শিউরে ওঠা তথ্য
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হিশাম আবুগারবিয়েহকে ঘিরে বেরিয়ে আসছে ভয়াবহ সব তথ্য।
২৬ বছর বয়সী এই মার্কিন নাগরিকের সহিংস আচরণ ও অপরাধপ্রবণ অতীত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত অপরাধে জড়িত ছিলেন। নিহত জামিল লিমনের সাবেক রুমমেট হিশামের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক সহিংসতা ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।
সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, হিশামের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে নাহিদা বৃষ্টির মিল পাওয়া গেছে। এতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পরিবার, যা ঘটনাটিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও ছিল নাটকীয়। পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে পুলিশ তার বাসায় গেলে তিনি অস্ত্রসহ নিজেকে ঘরের ভেতরে আটকে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশেষ বাহিনীকে ডাকা হয়। দীর্ঘ সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর অবশেষে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি ঘেঁটে জানা গেছে, হিশাম একসময় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তবে কয়েক বছর আগে তার শিক্ষাজীবন শেষ হয়। এর আগে তার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত ও চুরির অভিযোগও উঠেছিল। এমনকি পরিবারের সদস্যরাও তার সহিংস আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন।
গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুর তথ্য গোপন, মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট এবং পরিকল্পিত সহিংসতার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। জামিল লিমনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার এবং নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যুর প্রমাণ মেলার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ জোরদার করা হয়েছে।
নাহিদা বৃষ্টির পরিবারের দাবি, হিশামের বাসা থেকে পাওয়া আলামতেই এই হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ মিলেছে। মরদেহ পুরোপুরি উদ্ধার হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
বর্তমানে হেফাজতে থাকা হিশামের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও পূর্বের অপরাধের তথ্য একত্র করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিষয়:
