মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা ইরানের শাসনব্যবস্থায় বিভেদ দেখা দিয়েছে বলে যে দাবি করেছেন, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং নেতৃত্বে কোনো ধরনের বিভাজন নেই।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিক ইরানি কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের নেতৃত্ব ও জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব বা মতবিরোধ নেই। তারা ট্রাম্পের অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পৃথক বিবৃতিতে একই অবস্থান তুলে ধরেন।
সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে পেজেশকিয়ান ও গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক যৌথ বার্তায় বলেন, ইরানে কোনো চরমপন্থী বা মধ্যপন্থী বিভাজন নেই। তারা বলেন, আমরা সবাই বিপ্লবী। জনগণ ও সরকারের মধ্যে লৌহকঠিন ঐক্য রয়েছে।
তারা আরও জানান, সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা হবে।
প্রথম উপ-রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ রেজা আরেফ একই বার্তায় বলেন, ইরান বিভেদের নয়, ঐক্যের প্রতীক। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সংকটের সময় সবাই এক পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ হয়।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির কথিত মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ছেলে মোজতবা খামেনিকে নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। তবে এখনো তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
মার্কিন পক্ষ দাবি করেছে, ওই হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে নিউইয়র্ক টাইমস একাধিক ইরানি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, তিনি আহত হলেও মানসিকভাবে সচেতন আছেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা দাবি করে আসছেন, ইরানের ভেতরে নেতৃত্ব সংকট ও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে কট্টর ও মধ্যপন্থীদের মধ্যে ভয়াবহ দ্বন্দ্ব চলছে এবং দেশটি নেতৃত্ব নির্ধারণে সংকটে রয়েছে।
তবে তেহরান এসব দাবি বারবার নাকচ করে বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপই আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।