মিয়ানমারে অং সান সু চির সাজা কমালো জান্তা সরকার, তবে...
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৮ এএম
মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি-এর সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির জান্তা সরকার। শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী। তবে সাজা প্রায় সাড়ে চার বছর কমানো হলেও ৮০ বছর বয়সী এই নোবেলজয়ী নেত্রীকে মুক্তি দেওয়া হয়নি; বরং এখনো অজ্ঞাত স্থানে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
এর আগে দুর্নীতি, উসকানি, নির্বাচনি জালিয়াতি ও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল সু চিকে। তবে তার সমর্থক ও আন্তর্জাতিক মহল শুরু থেকেই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।
শুক্রবার মিয়ানমারের নববর্ষ উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং সারা দেশে ৪ হাজার ৩৩৫ জন বন্দিকে সাধারণ ক্ষমা দেওয়ার ঘোষণা দেন। কিন্তু সেই তালিকায় সু চির নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, এই ক্ষমার আওতায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা ৪০ বছরে নির্ধারণ করা হয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থান ২০২১-এর পর দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সু চিকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে আগেই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, গত ছয় মাসে এটি দেশটির তৃতীয় সাধারণ ক্ষমা। এর আগে নভেম্বর ও জানুয়ারিতে পৃথক দুই দফায় প্রায় ১৪ হাজার বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হলেও প্রতিবারই তালিকার বাইরে ছিলেন সু চি।
গত ৩ এপ্রিল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মিন অং হ্লাইং-এর প্রথম সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা। দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি দেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পুনর্মিলন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলেন।
এদিকে একটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্যমতে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত সু চি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে রাজনৈতিক অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
বর্তমানে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটিতে প্রায় ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
