ইরানের যুদ্ধের প্রভাবে প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৭ এএম
ইরানে পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধের প্রভাব উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর অর্থনীতিতে গুরুতর আকার নিতে পারে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)–এর নতুন এক মূল্যায়নে আশঙ্কা করা হয়েছে, এই সংঘাতের কারণে বেকারত্বের হার বাড়তে পারে এবং প্রায় ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন, নতুন করে দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন আরও ৪০ লাখ মানুষ।
ইউএনডিপির ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: আরব দেশগুলোর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলোর সমন্বিত জিডিপি ৩.৭ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত ধসিয়ে দিতে পারে। এছাড়া, এই সংঘাতের ফলে ১২০ থেকে ১৯৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে, যা ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের মোট আঞ্চলিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির চেয়েও বেশি।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বেকারত্বের হার ৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে, যার অর্থ ৩৬ লাখ মানুষ চাকরি হারাতে পারেন। এই সংখ্যাটি গত এক বছরে এ অঞ্চলে সৃষ্ট নতুন চাকরির সংখ্যার থেকেও বেশি।
ইউএনডিপি জানিয়েছে, আরব দেশগুলোর কাঠামোগত অবস্থান এমন যে স্বল্পমেয়াদি সামরিক সংঘাতও গভীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী ক্ষতি তৈরি করতে পারে।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ও ইউএনডিপির আরব রাষ্ট্র ব্যুরোর পরিচালক আবদাল্লাহ আল দারদারি বলেন, “এই সংকট অঞ্চলটির জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করছে। এটি দেখায়, আর্থিক, খাতভিত্তিক এবং সামাজিক নীতিগুলো নতুনভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা বেশি। বিশেষ করে জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতির বাইরে এসে অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণ, উৎপাদন সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও লজিস্টিক নিরাপদ করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো জরুরি।”
উল্লেখযোগ্য, এই মূল্যায়নে কম্পিউটেবল জেনারেল ইকুইলিব্রিয়াম (CGE) মডেল ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে চার সপ্তাহের সংঘাতের প্রভাব যেমন: বাণিজ্য ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং মূলধন ধ্বংসের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি জানায়, এই প্রভাব অঞ্চলজুড়ে সমান নয়। কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের কারণে উপঅঞ্চলের ভিন্নতা অনুযায়ী প্রভাবও ভিন্ন। সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (GCC) ও লেভান্ট অঞ্চলের দেশগুলোতে, যেমন সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইসরায়েল, জর্ডান ও তুরস্কের কিছু অংশ। এসব অঞ্চলে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা উৎপাদন, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের পতন ডেকে আনতে পারে।
ইউএনডিপি সতর্ক করেছে, দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি দেখা যাবে লেভান্ট ও স্বল্পোন্নত আরব দেশগুলোতে, যেখানে অর্থনৈতিক ঝুঁকি আগেই বেশি এবং সামাজিক প্রভাব মানুষের জীবনমানকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
