নেপালে বিক্ষোভে সহিংসতা: নিহত ২৫, আহত ৬০০-এর বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:০৪ এএম

ফাইল ছবি

নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ সহিংসতায় দুই দিনে অন্তত ২৫ জন নিহত ও ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। সহিংসতার মুখে সরকার পতনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী রাস্তায় নেমেছে।

বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে হিমালয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে আগুন দেয়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে সেনারা মোতায়েন হয় এবং জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাহারা বসানো হয়েছে এবং চলাচলকারীদের তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব নিয়ে এখন টানাপোড়েন চলছে। আন্দোলনকারীদের একাংশ সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তার বিরোধিতাও রয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত নেপালের প্রধান বিচারপতি ছিলেন সুশীলা কার্কি, যিনি দেশটির ইতিহাসে একমাত্র নারী প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত সোমবার ফেসবুক, এক্স ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা জারি করলে হাজারো তরুণ-তরুণী বিক্ষোভে নামেন। পুলিশ গুলি চালালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নেয় এবং সরকারি স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ২৫ এবং আহত ৬৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে চলমান সহিংসতার মধ্যে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ শর্মা ওলি পদত্যাগ করেন। প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল তাকে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব নিতে বললেও তিনি সরকারি বাসভবন ছেড়ে চলে যান। তার অবস্থান এখনো অজানা।

‘জেনারেশন জি’র বিক্ষোভ নামে পরিচিত এই আন্দোলন শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের বিরোধিতাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তরুণদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের পরিবার ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকলেও সাধারণ যুবকরা কর্মসংস্থানের সংকটে ভুগছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে নেপালের তরুণ বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ২০ শতাংশ। প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি যুবক জীবিকার খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন।



বিষয়:



Top