বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়িকা শাবানার জন্মদিন আজ
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৮ এএম
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী যুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন চিত্রনায়িকা শাবানা। টানা তিন দশকের অভিনয়যাত্রায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোটি দর্শকের ভালোবাসার নাম, বাংলা চলচ্চিত্রের এক অনিবার্য অধ্যায়। তার পারিবারিক নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর জন্মদিন।
১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাবানা। শৈশবে ঢাকার গেন্ডারিয়া হাই স্কুলে ভর্তি হলেও মাত্র ৯ বছর বয়সেই তার আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি ঘটে।
মাত্র ১০ বছর বয়সে, ১৯৬২ সালে ‘নতুন সুর’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে তার পর্দায় অভিষেক হয়। তখন তিনি পরিচিত ছিলেন ‘রত্না’ নামে। এরপর ধীরে ধীরে ‘তালাশ’, ‘ডাক বাবু’, ‘আবার বনবাসে রূপবান’-এর মতো ছবিতে নৃত্যশিল্পী, সহশিল্পী ও সহনায়িকা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন।
তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ১৯৬৭ সালে। এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে নায়ক নাদিমের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। সেই চলচ্চিত্র থেকেই ‘রত্না’ পরিচয় মুছে হয়ে ওঠেন ‘শাবানা’। বাংলা ও উর্দু ভাষায় নির্মিত ‘চকোরী’ বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সফলতা অর্জন করে, আর সেখান থেকেই শুরু হয় এক কিংবদন্তির পথচলা।
পরিচালক এহতেশাম ছিলেন তার আত্মীয়। প্রথমে পরিবার চলচ্চিত্রে আসতে অনিচ্ছুক থাকলেও পরে বাবার সম্মতিতেই শুরু হয় তার অভিনয়যাত্রা। শুরুর সেই স্মৃতিচারণায় শাবানা বলেছিলেন, তার প্রথম দৃশ্য ছিল আনন্দঘন একটি মুহূর্ত—যেখানে তিনি দৌড়ে এসে ভাইকে বিয়ের সংবাদ জানান। প্রথম দিনেই দৃশ্যটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় আত্মবিশ্বাস।
পরবর্তীতে তার বাবাও চলচ্চিত্র পরিচালনায় যুক্ত হন এবং ‘মুক্তি’ ও ‘মালকাবানু’র মতো ছবি নির্মাণ করেন, যা দর্শকমহলে সাড়া ফেলেছিল।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শাবানা অভিনয় করেছেন প্রায় ২৯৯টি চলচ্চিত্রে। সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন অভিনেতা আলমগীরের সঙ্গে—প্রায় ১৩০টি সিনেমায়। এরপর নায়করাজ রাজ্জাক, ফারুক, জসীম, সোহেল রানা ও নাদিমসহ প্রায় সব শীর্ষ নায়কের বিপরীতে তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়।
তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে—‘চকোরী’, ‘মধু মিলন’, ‘অবুঝ মন’, ‘ওরা ১১ জন’, ‘জননী’, ‘ভাত দে’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘ঘরের বউ’, ‘অপেক্ষা’, ‘ঘাতক’, ‘স্নেহ’, ‘ঘরের শত্রু’, ‘স্বামী কেন আসামী’সহ অসংখ্য কালজয়ী ছবি।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেন দশবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আজীবন সম্মাননাসহ অসংখ্য সম্মাননা। তার কাজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে।
১৯৭৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা ওয়াহিদ সাদিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন শাবানা। পরে তারা যৌথভাবে গড়ে তোলেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘এসএস প্রোডাকশন’, যার ব্যানারে নির্মিত হয় বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্র।
১৯৯৭ সালে হঠাৎ করেই চলচ্চিত্র জগৎ থেকে বিদায় নেন এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। ২০০০ সাল থেকে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বসবাস করছেন তিনি। তাদের সংসারে তিন সন্তান—সুমি, উর্মি ও নাহিন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে শাবানা শুধু একজন নায়িকা নন—তিনি এক যুগ, এক আবেগ, এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের নাম। তার জন্মদিনে ভক্তদের স্মৃতিতে আজও ভেসে ওঠে এক অনন্য নায়িকার আলো ছড়ানো উপস্থিতি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
