মা দিবসে দিলারা জামানকে নিয়ে মেয়ের আবেগঘন স্মৃতিচারণ
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ মে ২০২৬, ১২:১২ এএম
বিশ্ব মা দিবসে প্রখ্যাত অভিনেত্রী দিলারা জামান-কে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর মেয়ে জুবায়রা জামান চৌধুরী। ভালোবাসা, অভিমান, শ্রদ্ধা ও না বলা অনুভূতির মিশেলে মাকে ঘিরে নানা স্মৃতির কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
জুবায়রা জানান, প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি দেশের বাইরে বসবাস করছেন। ২০১৪ সালে বাবার মৃত্যুর আগে তিনি মেয়ের কাছে মায়ের দায়িত্ব দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তবে বাবার মৃত্যুর পরও দিলারা জামান যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকতে রাজি হননি। এমনকি গ্রিন কার্ড ছেড়ে দেশেই ফিরে আসেন। সেই সময় নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জুবায়রা।
মায়ের প্রতি তাঁর অন্যতম অভিমান অভিনয়জীবনকে ঘিরে। নাটকে সহশিল্পীদের আদর বা আবেগ প্রকাশের দৃশ্য দেখলে মন খারাপ হতো বলে জানান তিনি। কারণ বাস্তব জীবনে দিলারা জামান খুব একটা আবেগ প্রকাশ করতেন না।
জুবায়রার ভাষ্য অনুযায়ী, দিলারা জামান ছিলেন অত্যন্ত কঠোর মা। দুই মেয়েকে কঠোর শাসনের মধ্যে বড় করেছেন তিনি। সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরতে হতো, বাইরে আড্ডা বা খাওয়ার সুযোগও ছিল সীমিত। তবে এই কঠোরতার মধ্য দিয়েই সন্তানদের সততা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও জানান, তাঁদের বাবা বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন) ছিলেন। বাবা-মা দুজনই সৎ জীবনযাপন করেছেন এবং লোভ-লালসার কাছে কখনো আপস করেননি। সেই শিক্ষাই সন্তানদের জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলেছে।
চট্টগ্রামে থাকাকালে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দিলারা জামান। পরে ঢাকায় এসে সংসার ও সন্তানদের জন্য অভিনয় থেকে দীর্ঘ বিরতি নেন। সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া, রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব নিজ হাতে পালন করতেন তিনি।
পরবর্তীতে কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর নাটক এইসব দিনরাত্রি-এর মাধ্যমে অভিনয়ে ফেরেন দিলারা জামান। এরপর মা চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুনভাবে দর্শকের ভালোবাসা অর্জন করেন তিনি।
মায়ের মানবিক গুণের কথাও তুলে ধরেন জুবায়রা। কারও অসুস্থতা, পড়াশোনা বা আর্থিক সমস্যার কথা শুনলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন দিলারা জামান। নিজের সঞ্চিত অর্থও অনেক সময় অন্যদের প্রয়োজনে খরচ করে ফেলতেন বলে জানান তিনি।
বর্তমানে বয়সজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও অভিনয়ই দিলারা জামানের সবচেয়ে বড় সঙ্গী। ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও শ্রবণ সমস্যার মধ্যেও কাজ তাঁকে মানসিকভাবে সক্রিয় রাখে বলে মনে করেন তাঁর মেয়ে।
বিদেশে থাকলেও মায়ের হাতের রান্না, বিশেষ করে মাছের হালকা ঝোল এখনও ভীষণ মিস করেন জুবায়রা। তাঁর ভাষায়, সেই স্বাদ আজও ভুলতে পারেননি তিনি।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
