অভিনয়ের জন্য দেড় বছর ধরে কোরআন শিক্ষার মধ্য দিয়ে গেছেন ইয়ামি
বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৫ এএম
রূপালি পর্দার ঝলমলে উপস্থিতির আড়ালে যে থাকে দীর্ঘ সাধনা ও কঠোর পরিশ্রম, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ গড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। তার অভিনীত আলোচিত চলচ্চিত্র হক-এর চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে নিবিড় গবেষণা ও প্রস্তুতি নিয়েছেন।
সম্প্রতি বিবিসি এশিয়ান নেটওয়ার্ক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক সুপর্ণ এস ভার্মা জানান, সিনেমাটির গল্প ও চরিত্রকে বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করতে পুরো টিম দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা করেছে। বিশেষ করে ইসলামী আইন ও ধর্মীয় সামাজিক প্রেক্ষাপট বুঝতে প্রায় দেড় বছর সময় ব্যয় করা হয়েছে। তার ভাষায়, “তথ্যের এই যুগে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য করা কঠিন—তাই ‘হক’-কে আমরা একটি সচেতন ও যুক্তিনির্ভর কণ্ঠস্বর হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছি।”
সিনেমাটিতে ইয়ামি গৌতম অভিনয় করেছেন ‘শাজিয়া বানু’ চরিত্রে—এক সাহসী নারী, যিনি নিজের অধিকার আদায়ে আইনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। ১৯৭০-এর দশকের ভারতের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই গল্পে দেখা যায়, তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করার পর প্রথম স্ত্রীর ভরণপোষণ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এই অবিচারের বিরুদ্ধে শাজিয়া আদালতের দ্বারস্থ হন এবং শুরু হয় তার দীর্ঘ সংগ্রাম।
চরিত্রটির গভীরতা ফুটিয়ে তুলতে ইয়ামি শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি ইসলামী আইন নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করেছেন এবং পবিত্র কোরআন-এর প্রাসঙ্গিক দিকগুলোও অধ্যয়ন করেছেন। এর মাধ্যমে শাজিয়ার লড়াইকে আইনি ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই শক্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
জাংলি পিকচার্স, ইনসোমনিয়া ফিল্মস এবং বাওয়েজা স্টুডিও-এর ব্যানারে নির্মিত ‘হক’ সামাজিক ন্যায়বিচার ও নারী অধিকারের একটি শক্তিশালী উপস্থাপন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায় সিনেমাটি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি নেটফ্লিক্স-এ মুক্তির পর এটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
পরিচালক সুপর্ণ এস ভার্মা মনে করেন, ‘হক’ শুধু একটি চলচ্চিত্র নয়—এটি সমাজে প্রচলিত বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণার মাঝেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার প্রয়াস। আর সেই প্রয়াসকে সফল করতে ইয়ামি গৌতম-এর নিবেদন এই সিনেমাকে বিশেষ মাত্রা দিয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
