ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় ৫৯ বাংলাদেশি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:২৪ এএম

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক পুলিশিং সংস্থা ইন্টারপোলের ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় বর্তমানে ৫৯ জন বাংলাদেশির নাম রয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খোঁজ করা মোট ৬ হাজার ৪৪২ জন ব্যক্তির তালিকায় এসব বাংলাদেশির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর দেশে ইন্টারপোলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ‘ওয়ান্টেড’ তালিকার বাইরে আরও অনেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে সব রেড নোটিশভুক্ত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করে না সংস্থাটি। তবে এসব নোটিশ ইন্টারপোলের সদস্যভুক্ত দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেটওয়ার্কে সংরক্ষিত থাকে।

এ কারণেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হলেও তার নাম প্রকাশ্য ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় দেখানো হয়নি বলে জানা গেছে।

ইন্টারপোলের তথ্যমতে, বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশিদের খুঁজছে বিশ্বের একাধিক দেশ। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, বেলজিয়াম এবং সিঙ্গাপুর।

বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর চাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুরের রাজু ঢালী, যাকে হত্যা মামলায় খুঁজছে সিঙ্গাপুর। ঢাকার মো. মিলন ও লিটন ব্যাপারীকে হত্যা মামলায় খুঁজছে আফ্রিকার দেশ ইসওয়াতিনি। একই অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা খুঁজছে নোয়াখালীর মিজান মিয়াকে।

মুদ্রা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতের অনুসন্ধান তালিকায় রয়েছেন খুলনার আজিজুর রহমান, অজয় বিশ্বাস ও তরিকুল ইসলাম, নোয়াখালীর সবুজ, গোপালগঞ্জের আব্দুল আলীম শরীফ, নারায়ণগঞ্জের মনির ভূঁইয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শফিক উল। অন্যদিকে হত্যা মামলায় লক্ষ্মীপুরের খোরশেদ আলমকে খুঁজছে বেলজিয়াম।

চোরাচালানের অভিযোগে নাটোরের সিরাজ মোস্তফা এবং হত্যা মামলায় ফেনীর আলা উদ্দিনকে খুঁজছে মালয়েশিয়া। তছরুপের অভিযোগে মালদ্বীপ খুঁজছে হানিফকে। এছাড়া যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জাহিদুল ইসলাম এবং অস্ত্র মামলায় ফজলুল আমীন জাভেদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে খোঁজা হচ্ছে একাধিক পলাতক আসামিকে। তাদের মধ্যে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে রয়েছেন বাগেরহাটের রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইলের মোহাম্মদ তাজউদ্দীন ও বাবু আহমেদ রাতুল, চট্টগ্রামের ইউসুফ ও সাজ্জাদ হোসেন খান, ফরিদপুরের নাইম খান ইকরাম, বগুড়ার কালা জাহাঙ্গীর ফেরদৌস, গাজীপুরের নুরুল দীপু ও আহাম্মেদ মজনু, কুমিল্লার খন্দকার আব্দুর রশীদ ও রাশেদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

এ ছাড়া মানবপাচারের অভিযোগে কিশোরগঞ্জের জাফর ইকবাল, স্বপন, মিন্টু মিয়া ও তানজীরুল, মাদারীপুরের মোল্লা নজরুল ইসলাম, পর্নোগ্রাফি মামলায় টাঙ্গাইলের ওয়াসিম, অস্ত্র মামলায় গিয়াস উদ্দিন, নির্যাতনের মামলায় চট্টগ্রামের অশোক কুমার দাশ এবং জালিয়াতির অভিযোগে জামালপুরের আমানুল্লাহ শফিক ও আতাউর রহমানকে খুঁজছে বাংলাদেশ।

উল্লেখ্য, ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল বর্তমানে বিশ্বের ১৯৬টি দেশের সমন্বয়ে পরিচালিত আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতা সংস্থা। সীমান্ত পেরিয়ে সংঘটিত অপরাধ দমন, পলাতক আসামিদের সন্ধান এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সংস্থাটি।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top