ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা হালনাগাদ হবে প্রতি চার বছরে: অর্থমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ এএম
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন কার্যক্রম প্রতি ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা হালনাগাদ করা হবে প্রতি চার বছর পরপর। সোমবার ফ্যামিলি কার্ড–সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চতুর্থ সভা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি চার বছর পরপর তালিকা পুনর্বিবেচনা করে সচ্ছল ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয় পর্যালোচনা ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন (সংশোধিত) নির্দেশিকা-২০২৬ চূড়ান্ত করা এবং ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকার গঠনের পর গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগী নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য চলতি বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, বাজেটে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং কাউকে বাদ দিয়ে পরিকল্পনা করা হয়নি। অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, শুধু নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে নয়, বরং দেশের সব নাগরিককে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি জোরদারে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোনো দরিদ্র ব্যক্তির স্ত্রী মারা গেলে তিনি কৃষক কার্ড, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পাবেন।
তবে তিনি মনে করেন, শুধু ভাতানির্ভর সমাজ নয়, দক্ষ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য। এজন্য জনগণকে দক্ষতা অর্জন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সমাজকল্যাণ সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
