সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর বাড়লো উৎসে কর, কমে যাচ্ছে মুনাফা

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ এএম

ছবি: সংগৃহীত

সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে করের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফা উত্তোলনের সময় ১০ শতাংশ হারে অগ্রিম কর কেটে রাখা হবে। বর্তমানে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ হারে উৎসে কর প্রযোজ্য রয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীরা আগের তুলনায় কম মুনাফা হাতে পাবেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত, অবসরভাতা ভোগকারী এবং নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চূড়ান্ত কর দায় ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতদিন মুনাফার ওপর কাটা ৫ শতাংশ করই চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য হতো। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই হার বেড়ে ১০ শতাংশে উন্নীত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যবিত্ত পরিবারের একটি বড় অংশ সংসারের ব্যয় নির্বাহে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল। ফলে করের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের হাতে পাওয়া অর্থ কমে যাবে এবং আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।

উদাহরণ হিসেবে, সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত পরিবার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। প্রতি এক লাখ টাকার বিপরীতে মাসিক মুনাফা পাওয়া যায় ৯৯৪ টাকা ১৭ পয়সা। বর্তমানে ৫ শতাংশ কর কেটে গ্রাহক হাতে পান প্রায় ৯৪৫ টাকা। নতুন নিয়মে করের হার ১০ শতাংশ হলে হাতে পাওয়া অর্থ আরও কমে যাবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজের মতে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে বেশি কর কেটে নেওয়া হলে মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। তিনি মনে করেন, মধ্যবিত্তকে স্বস্তি দিতে এই অতিরিক্ত অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা উচিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অর্থবিল ২০২৬-এর মাধ্যমে আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা সংশোধন করে উৎসে করকে অগ্রিম কর হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত কর দায় প্রথা বাতিল করা হয়েছে।

তবে করদাতার কাছ থেকে কাটা অগ্রিম কর যদি প্রকৃত আয়করের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ১২০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে পরিবার সঞ্চয়পত্র, অবসরভাতা ভোগকারী সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রসহ চার ধরনের সঞ্চয়পত্র চালু রয়েছে। এসব সঞ্চয়পত্রে মেয়াদভেদে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত।

এদিকে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থসচিব মোহাম্মদ খায়েরুজ্জমান মজুমদার বলেন, এবারের বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিষয়ে নতুন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top