শত শত কোটি টাকা ব্যয়, তবুও নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু: কোথায় ঘাটতি?
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:০৪ এএম
দেশে ২০০০ সালে প্রথম বড় আকারে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই বাড়ছে এর প্রকোপ। মশক নিধন কার্যক্রম, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও জনসচেতনতায় সরকার শত শত কোটি টাকা ব্যয় করলেও ডেঙ্গু এখনও দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে রয়ে গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে রেকর্ড ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমে ২০২৪ সালে ৫৭৫ এবং ২০২৫ সালে ৪১৩ জনে দাঁড়ালেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, গত নয় বছরে মশক নিধন, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি কেনায় ৭০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে। শুধু ২০২৩ সালেই সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৪০০ কোটির বেশি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে না আসার পেছনে রয়েছে সমন্বয়হীনতা, গবেষণার ঘাটতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং নাগরিক অসচেতনতা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় দেশের অন্যান্য অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে থেকে যাচ্ছে। এছাড়া এডিস মশার প্রধান প্রজননস্থল ঘরের ভেতরে হওয়ায় শুধুমাত্র বাইরে ওষুধ ছিটিয়ে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতের প্রস্তুতিতেও রয়েছে নানা দুর্বলতা। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে মাঠপর্যায়ে স্যালাইন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সঠিক তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বদলি এবং নতুনদের দায়িত্ব দেওয়ার ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণ করা রোগীদের বড় অংশ জাতীয় চিকিৎসা গাইডলাইন অনুযায়ী সেবা পাননি। নিয়মিত পর্যবেক্ষণের অভাব, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরয়েড ব্যবহার এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে বিলম্বও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন সারা বছরই ডেঙ্গুর সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘায়িত বর্ষা, উচ্চ তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং জলাবদ্ধতা এডিস মশার বিস্তারে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি মশার আচরণেও পরিবর্তন এসেছে; আগে শুধু পরিষ্কার পানিতে জন্মালেও এখন ময়লা পানিতেও এডিস মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, তিন দিনের বেশি কোথাও পানি জমতে না দেওয়া এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে চিরুনি অভিযান, মোবাইল টিম, ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং বিশেষ চিকিৎসা প্রটোকল বাস্তবায়ন করা হবে। কোনো বাসা-বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা ও জরিমানারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বিষয়:
