মেয়েদের অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালুর প্রস্তাব
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০১:৫২ এএম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিশাল বাজেট আজ বিকেলে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বর্তমান সরকারের প্রথম এই বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাজেটের সম্ভাব্য খসড়া অনুযায়ী, শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে একগুচ্ছ যুগান্তকারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক (অনার্স) পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের প্রস্তাব আসতে পারে। একই সঙ্গে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়াতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ কমিয়ে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণা যুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মমুখী দক্ষতা অর্জন করতে পারে। নৈতিকতা, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ উন্নয়নের বিষয়েও কারিকুলামে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এসব ভাষা শেখার মাধ্যমে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিতে আগ্রহীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ঋণ সুবিধার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধাপে ধাপে সারা দেশে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নয়নের উদ্যোগও বাজেটে স্থান পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটতে পারে এবং দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। তবে অবকাঠামোগত সক্ষমতা, বাস্তবায়ন দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ধারাবাহিকতাই এসব কর্মসূচির সফলতার মূল চ্যালেঞ্জ হবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
