আজ সংসদে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

সংগৃহীত

দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট আজ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট। ‘অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ ও বিকেন্দ্রীকরণ: ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রণীত এই বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অবকাঠামো উন্নয়নের তুলনায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এবার বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে এ দুই খাতেই সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের বিকাশ, উদ্যোক্তা তৈরি, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলের জন্য ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ থাকতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু এবং বিদ্যমান ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাবও থাকতে পারে।

যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রেখে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, আর মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

সরকারের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ডিজিটাল সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা এক প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।

এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কার্যক্রম আরও ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনলাইনে কর রিটার্ন দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে কর ফেরত এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থার প্রস্তাবও থাকতে পারে।

তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছানোর পর সেটিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি আনা ছাড়া প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনও কঠিন হতে পারে।

নীতিনির্ধারকদের আশা, চলমান সংস্কার কার্যক্রম, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে এবং ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top