তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা আজ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
দীর্ঘ দুই দশক পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর আজ জাতীয় সংসদে প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে দলটির সরকার। বিকেল ৩টায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।
এটি বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট হলেও বিএনপি সরকারের সামগ্রিকভাবে ১৩তম জাতীয় বাজেট। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম বাজেট। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ঋণের সুদ, ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ে ব্যয় হবে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব থাকছে। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের সরবরাহের ওপর অগ্রিম কর আরোপের পরিকল্পনাও রয়েছে। ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য অভিন্ন হারে লেনদেনভিত্তিক কর চালুর প্রস্তাবও বাজেটে রাখা হয়েছে।
করের আওতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থী ও সরকারি প্রজ্ঞাপনে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তি ছাড়া ব্যাংক হিসাব খুলতে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করদাতাদের তথ্য যাচাইয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক ও বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
অন্যদিকে বড় ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু সুবিধাও থাকছে। বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ আকর্ষণে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব যানবাহারের ব্যবহার বাড়াতে বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি ও নিবন্ধনে বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপরীতে পেট্রোল ও ডিজেলচালিত গাড়ির আমদানি শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য ও ভোগ্যপণ্যসহ প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ভোজ্যতেল, চিনি, লবণ, মাছ, মাংস ও বিভিন্ন ধরনের বীজ উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া শিশুখাদ্য, মসলা, খেজুর, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত রিং, চোখের কৃত্রিম লেন্স এবং কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস সামগ্রীর ওপর কর ও শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতে মোবাইল সংযোগের ওপর বিদ্যমান কর প্রত্যাহার এবং ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মুদ্রণযন্ত্র ও পর্দা আমদানিতে কর ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি গিটার, পিয়ানো, বেহালা ও চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহৃত ক্যামেরার শুল্কও কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড়ের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমবে, যা মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
