কী বার্তা দিয়ে গেলেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান?
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
ছয় বছর পর আবারও তুরস্কের একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে গেল। তিন দিনের ঢাকা সফরে হাকান ফিদান বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দুই দেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তিনটি নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠার ঘোষণা। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিবছর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে ‘২+২ বৈঠক’, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈঠককে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করা এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তগুলো স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে তুরস্ক এখন বাংলাদেশকে শুধু বাণিজ্যিক অংশীদার নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে।
তুরস্কের ‘এশিয়া এনিউ’ নীতির আওতায় বাংলাদেশের গুরুত্বও ক্রমাগত বাড়ছে। ২০১৯ সালে ঘোষিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে আগ্রহী আঙ্কারা।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, “আমরা বিস্তৃত পরিসরে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর এটিকে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী পর্যায়ে উন্নীত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি।”
বাংলাদেশ ও তুরস্ক-এর মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার। ভবিষ্যতে এই বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করতে চায় আঙ্কারা। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা শিল্প, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শিক্ষা, বিনিয়োগ, সবুজ জ্বালানি এবং সুনীল অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘২+২ বৈঠক’ চালুর সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ ধরনের কাঠামো সাধারণত যেসব দেশের সঙ্গে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে, তাদের ক্ষেত্রেই চালু করা হয়। এর মাধ্যমে ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্ক নতুন কৌশলগত মাত্রা লাভ করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর প্রেসিডেন্ট আ ন ম মুনীরুজ্জামান মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে গৃহীত নতুন কাঠামোগুলো ভবিষ্যতে অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে।
সামগ্রিকভাবে হাকান ফিদানের সফর একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—বাংলাদেশকে এখন দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে দেখছে তুরস্ক, এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: প্রথম আলো
বিষয়:
