২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৭ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন আজ বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অধিবেশনে আগামী ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেটের ওপর বিস্তারিত আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন তা পাস হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অধিবেশন শুরুর আগে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর দিন স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বাজেট অধিবেশন কতদিন চলবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থের বড় অংশ আসবে কর, মূল্য সংযোজন কর ও শুল্ক আদায় থেকে। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বাকি ঘাটতি পূরণ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে।
ভর্তুকিতে বাড়তি বরাদ্দ
আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ বাবদ ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের তুলনায় এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের তুলনায় বৃদ্ধি প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। সার আমদানির জন্য রাখা হয়েছে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পাশাপাশি গ্যাস আমদানির জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থ বিভাগের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কৃষি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে।
খাদ্যে ভর্তুকি কমছে
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে আগামী অর্থবছরে ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় কম। সরকার জানিয়েছে, পরিবারভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে অন্যান্য খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির পরিসর কমানো হবে।
প্রবাসী আয়ে বাড়ছে প্রণোদনা
দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসী আয়। বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ দিতে এ খাতে প্রণোদনা ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
রপ্তানি সহায়তা অপরিবর্তিত
বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে নগদ সহায়তার জন্য আগামী অর্থবছরেও ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটের সমান থাকবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
