জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ এএম
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে আরও টেকসই, আধুনিক ও সহনশীল করে গড়ে তুলতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু সংকট বর্তমানে সমগ্র মানবজাতির জন্য অন্যতম বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, খরা এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক দূষণ সৃষ্টিতে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও ভৌগোলিক অবস্থান, উচ্চ জনঘনত্ব এবং জলবায়ু-সংবেদনশীল অর্থনীতির কারণে দেশটি বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে। লবণাক্ততা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া, জলবায়ুর কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা অনুসরণ করছে। পাশাপাশি উপকূলীয় সুরক্ষা, সামাজিক বনায়ন, দুর্যোগ প্রস্তুতি, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং প্রকৃতিনির্ভর সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কার্বন ঋণ সুবিধা এবং বৈশ্বিক কার্বন বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সবুজ শিল্পায়ন, পরিবেশবান্ধব নগরায়ণ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং পরিবেশসম্মত প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার।
তারেক রহমান বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ, বাসযোগ্য ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এখন বিশ্ববাসীর জন্য কঠিন বাস্তবতা। এ প্রেক্ষাপটে দিবসটির তাৎপর্য আরও বেড়েছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বৈশ্বিক জলবায়ু উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা বহন করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
