১৮ বছরের নিচে তামাক পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ এএম
তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণ, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসের প্রতিপাদ্য—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’—বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, তামাকে থাকা নিকোটিন মানুষের মধ্যে মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে এবং বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসযন্ত্রের রোগের অন্যতম কারণ।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে, যার পেছনে তামাক ও নিকোটিন ব্যবহারের বড় ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে প্রাণ হারায়।
তামাক ব্যবহারের অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যব্যয় বৃদ্ধি, পরিবেশের ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হচ্ছে।
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে সংশোধন আনা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের সুরক্ষায় তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক-সিনেমা ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমেও তামাকের প্রচার বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য বিক্রি এবং জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপানও নিষিদ্ধ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে হবে। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সরকারের সমন্বিত উদ্যোগেই একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করে তিনি দেশের জনগণকে তামাক ও নিকোটিনমুক্ত জীবনযাপনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
