ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামের বানান ভুল, চিড়িয়াখানার কিউরেটর বদলি
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
জাতীয় চিড়িয়াখানায় সংরক্ষিত আলোচিত অ্যালবিনো মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর নামের বানান ভুল এবং তা ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পর চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শুধু বানান ভুল নয়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নামে একটি প্রাণীর নাম প্রদর্শন এবং পরে সেটি ভুলভাবে উপস্থাপনের ঘটনায় প্রশাসনিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে আলোচনায় এলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ-৪ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে ডা. আতিকুর রহমানকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সমমান) পদে বদলি করা হয়েছে। তাকে অধিদপ্তরের লিভ, ডেপুটেশন অ্যান্ড ট্রেনিং রিজার্ভ (এলডিটিআর) পদে সংযুক্ত করা হয়েছে।
একই প্রজ্ঞাপনে এলডিটিআর পদে কর্মরত ডা. মো. হাবিবুর রহমানকে জাতীয় চিড়িয়াখানার নতুন কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও সেখানে বলা হয়েছে, ‘জনস্বার্থে’ এই রদবদল কার্যকর করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কোরবানির পশুর হাটে আলোচনায় আসে প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের বিরল অ্যালবিনো মহিষটি। গোলাপি-সাদা রঙের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে খামারিরা এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। পরে প্রাণীটিকে সংরক্ষণের জন্য সরকার উদ্যোগ নেয় এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশের মাধ্যমে সেটিকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়।
তবে চিড়িয়াখানায় প্রদর্শনের সময় পরিচিতি ফলকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’-এর বানান ভুল করে ‘ডোনাল্ড ট্টাম্প’ লেখা হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে ফলক সংশোধন করা হলেও প্রাণীটির নাম পরিবর্তন করে ‘সাদা মহিষ’ রাখা হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে প্রাণীর নাম প্রদর্শন শুরু থেকেই বিতর্কিত ছিল। পরবর্তীতে বানান ভুলের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও বিব্রতকর করে তোলে।
মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, পুরো বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম ব্যবহার এবং তার ভুল উপস্থাপন—উভয় বিষয়ই এ সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
