তামাকের বিরুদ্ধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৬, ১১:৫০ এএম

সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সচেতন করতে প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।

 

রাষ্ট্রপতি বলেন, তামাক চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এটি ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল ও প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রায় দুই লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এতে পরিবারগুলোর কর্মক্ষম সদস্য হারিয়ে তারা আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, যা জাতীয় উন্নয়নকেও ব্যাহত করে।

 

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আকর্ষণীয় ও ভ্রান্ত প্রচারণার ফাঁদে পড়ে অনেক তরুণ ও যুবক ধূমপানে আসক্ত হচ্ছে, যা পরবর্তীতে মাদকাসক্তির দিকেও ঠেলে দিতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি বলে তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল-এ স্বাক্ষর করে এবং ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ও কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে নারী, শিশু ও তরুণদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

শেষে রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ পালনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এর সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top