শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয়: জাতিসংঘ

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ৩০ মে ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

সংগৃহীত

বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও দায়িত্বশীলতা বিশ্ববাসীকে শান্তিতে বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা আরও জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়।

এ বছর ২৯ মে পালিত হয়েছে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫০ হাজারের বেশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন, যাদের মধ্যে চার হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি সদস্য রয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৮ সালে শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই নিহত হয়েছেন ৫৯ জন শান্তিরক্ষী।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সংঘাতপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে মোতায়েন শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
তিনি বলেন, নিজ দেশ থেকে বহু দূরে অবস্থান করে শান্তিরক্ষীরা সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকি, নির্বাচন আয়োজন এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ সুগম করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।গুতেরেস অতীত ও বর্তমানের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগ বিশ্ব কখনও ভুলবে না। “শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কারও মৃত্যু কাম্য নয়,” বলেন তিনি।
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন উল্লেখ করে মহাসচিব সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি শান্তিরক্ষা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও আশার আলো ফিরিয়ে আনার একটি কার্যকর এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও নির্ভরযোগ্য আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
গুতেরেসের ভাষায়, “শান্তিরক্ষায় বিনিয়োগ মানে একটি নিরাপদ ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। যারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন, তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে।”
জাতিসংঘ জানিয়েছে, শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে আগামী ৫ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে শান্তিরক্ষী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে নিহত শান্তিরক্ষীদের সম্মানে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ‘ইউএন মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দ্য ইয়ার’ এবং ‘ইউএন ওম্যান পুলিশ অফিসার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও দেওয়া হবে।
এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখবেন শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া।

এনএফ৭১/ওতু





বিষয়:



Top