‘কিচেন কেবিনেট’ ঘিরে বিস্ফোরক মন্তব্য সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ নিত বলে দাবি করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার ওই গ্রুপের বৈঠক হতো এবং সরকারের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতো।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তৌহিদ হোসেন বলেন, তিনি শুরুতে বিষয়টি পুরোপুরি জানতেন না। পরে জানতে পারেন, একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ নিয়মিত বৈঠক করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত।
তার ভাষায়, “কোনো এক উপলক্ষে যমুনায় কিচেন কেবিনেটের একটি বৈঠকে আমাকে যেতে হয়েছিল। পরে জেনেছি, প্রতি মঙ্গলবার তারা বসতেন। সিদ্ধান্ত নেয় কেউ কেউ—এমন কথা কানে আসত। কিন্তু পরে বুঝলাম, সত্যিই একটি গ্রুপ ছিল যারা নিয়মিত সিদ্ধান্ত নিত।”
তিনি আরও বলেন, নিজের মন্ত্রণালয়েও একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল। এ কারণে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি সরে আসার কথা তিনবার ভেবেছি। কিন্তু তারা বলেছে, এতে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, “ডিপ স্টেট পৃথিবীর প্রায় সব ঘটনাতেই কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকে। তবে তারা সাধারণত স্রোতের বিপক্ষে যায় না, বরং পরিস্থিতিকে নিজেদের মতো প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।”
এদিকে, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষায়, “এই চুক্তির সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামান্যতম সম্পৃক্ততাও ছিল না। বিষয়টি দেখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।”
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন তৌহিদ হোসেন। তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ পুরোপুরি রাজনীতি থেকে হারিয়ে যাবে না এবং ভবিষ্যতে দলটি আবারও নির্বাচনে অংশ নেবে।
তিনি বলেন, “আমাদের দেশের মানুষের স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী নয়। আমি মনে করি আওয়ামী লীগ আবার রাজনীতিতে ফিরে আসবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।”
একই সঙ্গে বিএনপির সম্ভাব্য সরকার নিয়ে এখনই মূল্যায়নে যেতে চান না বলেও জানান তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সাবেক এই উপদেষ্টা।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
