চার মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৮ কন্যাশিশু, হত্যা ১৭

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ১০:৪৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে সাম্প্রতিক সময়ে কন্যাশিশুদের ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সমাজজুড়ে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের প্রথমার্ধ পর্যন্ত অন্তত ১১৮ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৭ শিশুকে।

সর্বশেষ রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে খণ্ডবিখণ্ড করার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এর আগে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনায় জড়িত এক আত্মীয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা প্রতিবেশী, আত্মীয় কিংবা পরিচিত মানুষের নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে আরও ৪৬ শিশুর ওপর। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ শিশুকে এবং ধর্ষণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় হত্যা করা হয়েছে তিন শিশুকে। এছাড়া নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে দুই শিশু।

শুধু মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই ২৪ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। একই সময়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২ শিশুকে এবং পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সারাদেশে প্রায় ছয় হাজার মামলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার পেছনে সামাজিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়ার প্রবণতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও অপরাধীদের সাহস বাড়াচ্ছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৈতিক শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং দ্রুত বিচার ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, শিশুরা তুলনামূলক দুর্বল হওয়ায় অপরাধীরা সহজ লক্ষ্য হিসেবে তাদের বেছে নেয়। একই ধরনের অপরাধ বারবার ঘটতে থাকলে অন্যদের মধ্যেও সেই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জনপরিসর—কোথাও শিশুরা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। শিশু সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top