ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হলেন মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর মহাপরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর পেশ ইমাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লা হিল বাকী।
বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী অন্যান্য পেশাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা ত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পেশাদার আলেম ও মসজিদের ইমাম সচিব পদমর্যাদার এ ধরনের উচ্চ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেলেন।
ধর্মীয় জ্ঞান, আধুনিক শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয়ে মুফতি মুহিববুল্লা হিল বাকী দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী অঙ্গনে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি কওমি, আলিয়া ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি চট্টগ্রামের দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা, ভারতের দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আরবি বিভাগে অধ্যয়ন করেন। তিনি কওমি শিক্ষায় দাওরায়ে হাদিস, আলিয়া শিক্ষায় কামিল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
কর্মজীবনে শিক্ষক, গবেষক ও প্রশিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম-সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার পাশাপাশি দারুল মারিফ ও দারুল উলুম মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে ইসলামি জ্ঞানচর্চা ও পাঠদানে যুক্ত ছিলেন।
ধর্মীয় অঙ্গনেও রয়েছে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ইমামতি করেছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইসলামের মধ্যপন্থা, মানবিকতা ও সহনশীলতার বার্তা তুলে ধরেছেন।
ইসলামি ব্যাংকিং ও শরিয়াহভিত্তিক অর্থনীতিতেও রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। সর্বশেষ তিনি সেন্ট্রাল শরিয়াহ কাউন্সিল ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শরিয়াহ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও মিশর ও ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, তার এ নিয়োগ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে এবং গবেষণানির্ভর পরিকল্পনার মাধ্যমে ধর্মীয় মূল্যবোধভিত্তিক সামাজিক উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
