জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভাগ করতে নতুন আইন, সংসদে উঠতে পারে জুনেই

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ মে ২০২৬, ০৫:৫১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগে বিভক্ত করতে নতুন আইন আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি শনিবার প্রথম বৈঠকে বসছে।

জানা গেছে, যাচাই শেষে বিষয়টি জাতীয় সংসদে নতুন বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে। আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন হতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে এনবিআরকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে একটি বিভাগ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে এবং অন্যটি রাজস্ব প্রশাসন ও রাজস্ব আদায়ের কাজ পরিচালনা করবে। তবে কাঠামোগত কিছু বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপত্তির মুখে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলার পর সরকার সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি করে।

সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরেই রাজস্ব খাতে সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। সংস্থাটির শর্ত অনুযায়ী প্রতি বছর জিডিপির অন্তত ০.৫ শতাংশ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জিত হয়নি। ফলে এনবিআর সংস্কার, ব্যাংক খাতসহ অন্যান্য খাতে অগ্রগতির ধীরগতির কারণে আইএমএফ দুই কিস্তিতে প্রায় ১৩০ কোটি ডলার ঋণ ছাড় স্থগিত রেখেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা কার্যপত্রে বলা হয়েছে, ১৯৭২ সাল থেকে এনবিআর একই সঙ্গে করনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে আসছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একই প্রতিষ্ঠানের হাতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকলে স্বার্থের সংঘাত, জবাবদিহির ঘাটতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি হয়।

কার্যপত্রে আরও বলা হয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবকে একই সঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় নীতি প্রণয়নেই বেশি সময় ব্যয় হচ্ছে। এতে রাজস্ব আহরণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে নতুন সংশোধনীতে রাজস্ব নীতি বিভাগের সচিব ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব নিয়োগে অভিজ্ঞতাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ নিশ্চিত হবে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ এক সেমিনারে বলেন, একই সংস্থা যখন করনীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে, তখন সেখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়।

সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থাও পুনরুদ্ধার হবে।



বিষয়:



Top