হামের প্রাদুর্ভাব: ফিটনেস বিতর্ক নয়, মূল সমস্যা টিকা ও দারিদ্র্য

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২১ মে ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যু বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় মায়েদের ‘ফিটনেস সচেতনতা’ ও বুকের দুধ না খাওয়ানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, চিকিৎসক ও গবেষকদের মতামত বলছে—সমস্যার মূল কারণ ভিন্ন।

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালসহ বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল  ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য অভিভাবক। তাদের অধিকাংশই নিম্নআয়ের পরিবার থেকে আসা, যাদের মধ্যে অপুষ্টি, দারিদ্র্য ও স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

সম্প্রতি একটি বক্তব্যকে ঘিরে আলোচনার সূত্রপাত হয়, যেখানে বলা হয়—অনেক মা ‘ফিটনেস হারানোর ভয়ে’ সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না। পরে অবশ্য ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যা ও সংশোধন দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দেশে বুকের দুধ খাওয়ানোর হার কিছুটা কমলেও এর পেছনে রয়েছে জন্মের পরপর দুধ না আসা, সঠিক সহায়তার অভাব, কর্মজীবী মায়েদের সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি এবং শিশু খাদ্য বিপণনের প্রভাব।

গবেষণা অনুযায়ী, ০ থেকে ৫ মাস বয়সী শিশুদের শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর হার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমে গেছে। জন্মের প্রথম ঘণ্টায় বুকের দুধ খাওয়ানোর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে এসব গবেষণায় মায়ের ‘ফিটনেস’ বা সৌন্দর্যচিন্তাকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জাতিসংঘ শিশু তহবিল এর নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশুরা হামের টিকা না পাওয়াই বর্তমান প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ। গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের বড় একটি অংশ রক্তস্বল্পতা ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছেন বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও দায় এককভাবে মায়ের ওপর চাপানো ঠিক নয়।

নারী অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, শিশুমৃত্যুর মতো সংবেদনশীল ঘটনায় সামাজিক ও কাঠামোগত ব্যর্থতা আড়াল করে মায়েদের দায়ী করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ ও স্বাস্থ্যসেবার অভাবকে বিবেচনায় না এনে শুধু মায়েদের দায়ী করা একটি ভুল ব্যাখ্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হামে শিশুমৃত্যু রোধে সবচেয়ে জরুরি হলো টিকাদান নিশ্চিত করা, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবার কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা।



বিষয়:



Top