রামিসা হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ২০ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা (৩০) এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশর অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত জাকিরকে পালাতে সহায়তা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার সকালে। শিশুটির মা দরজায় বারবার নক করলেও স্বপ্না ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করেন, যাতে জাকির পালাতে পারে। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে।
তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত জাকির পেশায় রিকশা মেকানিক এবং তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। পুলিশের ধারণা, শিশুটি বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল এবং ঘটনা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তার মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে ওই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠে। ঘটনার দিন সকালে শিশুটির মা তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে তার স্যান্ডেল দেখতে পান। সন্দেহ হলে তিনি দরজায় নক করেন, সেই সময়ই হত্যাকাণ্ড চলছিল।
পরে পুলিশ স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকে আটক করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রামিসার মরদেহ পল্লবীর বাসার খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়, আর বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায় বাথরুম থেকে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
