হাম রোগী বাড়ায় সব হাসপাতালে জরুরি নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন নির্দেশনায় হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ, দ্রুত ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং কঠোর আইসোলেশন ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. আবু মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কেবিন রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো হাসপাতাল হাম রোগীকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। রোগী হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রাখতে বলা হয়েছে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে রোগী পরিদর্শনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দর্শনার্থী প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি প্রতিটি হাম রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী অবস্থান করতে পারবেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রতিদিন ভর্তিকৃত হাম রোগীদের হালনাগাদ তথ্য ইএমআইএস সার্ভারে আপলোড করতে হবে। জরুরি সহায়তার জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮।
কর্মকর্তারা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় দ্রুত রোগ শনাক্ত, আইসোলেশন এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই হাসপাতালগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬ দফা নির্দেশনা
১. সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে।
২. রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. হাসপাতালের ১০ শতাংশ বিনামূল্যের শয্যার অর্ধেক অর্থাৎ ৫ শতাংশ হাম রোগীদের জন্য সংরক্ষণ রাখতে হবে।
৪. প্রতিটি ভর্তি রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক বা দর্শনার্থী থাকতে পারবেন।
৫. প্রতিদিন রোগীর তথ্য surveillance.dghs.gov.bd সার্ভারে আপলোড করতে হবে।
৬. হাম রোগীদের চিকিৎসায় স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
