আলেমদের ওপর জুলুম হতে দেব না, প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করব: ধর্মমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৬, ০১:৫৮ এএম
আলেম-ওলামাদের ওপর কোনো ধরনের অবিচার, অত্যাচার কিংবা জুলুম হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত আছেন, তবে আলেম সমাজের প্রতি বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবার (১৭ মে) রাজধানীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিলনায়তন-এ আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে আলেম-ওলামাদের করণীয় শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসাগুলো যেন বঞ্চিত না হয় এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার না করা হয়—এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সরকার সে অনুযায়ী কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “ওলামায়ে কেরামদের জন্যই ইসলাম টিকে আছে এবং ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে। ইসলামের প্রচার ও মাদ্রাসা পরিচালনায় আল্লাহপাকই সহায়তা করবেন।”
চামড়া সংরক্ষণে আলেম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে সঠিক দাম না পেয়ে অনেক সময় কাঁচা চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এবার যেন এমন পরিস্থিতি না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
চামড়ার গুণগত মান ঠিক রাখতে সঠিকভাবে চামড়া ছাড়ানো ও সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চামড়া সিন্ডিকেট ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে।
বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আলেম সমাজের অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের গণভোটে পীর-মাশায়েখ, কওমি আলেম ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর পক্ষে কাজ করেছিলেন।
এছাড়া তিনি জানান, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতার বিষয়টি প্রথম গুরুত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান। পর্যায়ক্রমে দেশের সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মরতদের এ ভাতার আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর মহাপরিচালক আঃ ছালাম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ। এছাড়া বিভিন্ন মাদ্রাসার মুহতামিম, শিক্ষক, খতিব, ইমাম ও ওলামা-মাশায়েখরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিষয়:
