সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার মেয়ে ও একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন পান। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে পরবর্তীতে তার স্থলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে ওই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতা নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের ওষুধ শিল্পের পথিকৃৎ এবং একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।

শৈশবে কলকাতায় বেড়ে ওঠা এই রাজনীতিবিদ পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে। পিতার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পুনরায় বিজয়ী হন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও দানশীলতার জন্য এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ-২ ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যসহ বিএনপি নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top