সৌর বিদ্যুৎ খাতে ‘বিপ্লব’ আনতে নতুন উদ্যোগ সরকারের

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৬, ১২:৩৮ এএম

সংগৃহীত

সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে আগামী জুনের মধ্যেই নতুন নীতিমালা ঘোষণা করতে পারে সরকার বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তার মতে, এ নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের মতো সৌর বিদ্যুৎ খাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

বুধবার (১৪ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পিপিপি কর্তৃপক্ষ ও বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পিপিপি পদ্ধতিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে এবং বাংলাদেশও এ খাতে এগিয়ে যেতে চায়। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেন তিনি।

কর্মশালায় ফেনীর সোনাগাজীতে ১৩০-১৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-টাইড সোলার পাওয়ার ও ব্যাটারি স্টোরেজ প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের আওতাধীন বেজার ৪১২ একর জমিতে পিপিপি ভিত্তিতে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুতের অফ-টেকার হবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।

সভাপতির বক্তব্যে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, সোনাগাজী প্রকল্পটি সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে। তিনি জানান, আগামী আগস্টের মধ্যে প্রকল্পটির ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। এ অবস্থায় সৌর বিদ্যুৎ জ্বালানি ব্যয় কমানো এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জানা গেছে, গত মার্চে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে সরকারি সংস্থার জমিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের নতুন গাইডলাইন অনুমোদন করা হয়। এর আওতায় সোনাগাজী প্রকল্পকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক মডেলিং ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

 

এনএফ৭১/ওতু



বিষয়:



Top