পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে অনুমোদন, বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানিচিত্র
নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৪ মে ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট, খরা ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে আগামী সাত বছরের মধ্যে এই বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
খরা ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ
ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পানিপ্রবাহ কমে গিয়ে তীব্র খরা ও লবণাক্ততার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষি, মৎস্য এবং জীববৈচিত্র্য ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে গড়াই, মধুমতীসহ অন্তত পাঁচটি মৃতপ্রায় নদী নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। পাশাপাশি প্রায় সাত কোটি মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।
কোথায় হচ্ছে ব্যারাজ?
রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলায় নির্মাণ করা হবে ব্যারাজটির মূল অবকাঠামো। প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারাজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে ও ১৮টি আন্ডার স্লুইস। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, এর মাধ্যমে প্রায় ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
প্রথম ধাপে গড়াই-মধুমতী ও হিসনা নদী পুনঃখনন করা হবে। পরবর্তী ধাপে চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থার পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
কৃষি ও মৎস্যে নতুন সম্ভাবনা
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, রাজশাহী ও পাবনাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে বছরে প্রায় ২৪ লাখ টন ধান উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সোয়া দুই লাখ টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
এছাড়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জিকে সেচ প্রকল্পে সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
জলবিদ্যুৎ ও নতুন শহর গড়ার পরিকল্পনা
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় ব্যারাজকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চিন্তাও রয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী জানান, ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সেখানে তিনটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাতটি আধুনিক স্যাটেলাইট শহর নির্মাণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই ব্যারাজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি মান বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশে এর আগে মনু, তিস্তা ও টাঙ্গন নদীর ওপর ব্যারাজ নির্মিত হলেও আকার, ব্যয় এবং প্রভাবের দিক থেকে পদ্মা ব্যারাজ হবে দেশের সবচেয়ে বড় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।
এনএফ৭১/ওতু
বিষয়:
