ঈদে যানবাহনে যে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি কঠোর হস্তে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৩:৪১ পিএম
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সড়ক ও নৌপথে পশুবাহী যানবাহনে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের অপরাধ কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ, ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অসুস্থ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বন্ধ কারখানার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ নিয়ে করা মন্তব্য প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করার প্রয়োজন নেই। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হলে সেটি কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর সরকারের কড়া নজর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে— এমন অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোথায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, তার তালিকা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
তিনি আরও জানান, গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ী, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চিহ্নিত আসামি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঈদের আগে ও পরে সাতদিন করে মোট ১৪ দিন বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। পুলিশ সদর দপ্তরে মনিটরিং সেল খোলা থাকবে। এ সময় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থার হটলাইন সক্রিয় থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব, পুলিশ, আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। চাঁদাবাজি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বডি ক্যামেরা ব্যবহার করবে এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি জানান, এবার সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৯টি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৫টি এবং দক্ষিণ সিটিতে ১১টি হাট বসবে। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নজরদারি ক্যামেরা ও জাল নোট শনাক্তে ব্যাংকের বুথ রাখা হবে।
এছাড়া কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
