রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় প্রাণ গেল ময়মনসিংহের আবদুর রহিমের

নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:৪৪ এএম

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আবদুর রহিম নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে তাকে রাশিয়ায় নেওয়া হলেও পরে দালালচক্র প্রতারণা করে রুশ সেনাবাহিনীতে পাঠিয়ে দেয়। ছেলের মৃত্যুর খবরে পরিবারজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

সোমবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের পুটিজানা নামাপাড়া গ্রামে তার বাড়িতে গিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়।

ছেলেকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা রমিছা খাতুন। আহাজারি করে তিনি বলেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছিলেন। কিন্তু দালালরা তাকে সেনাবাহিনীতে পাঠিয়ে দেয়, যা পরিবার জানত না। তার অভিযোগ, প্রতারণার কারণেই ছেলেকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

স্বজনরা জানান, আজিজুল হক ও রমিছা খাতুন দম্পতির তিন ছেলের মধ্যে বড় ছিলেন আবদুর রহিম (৩০)। গত ২ মে প্রতিপক্ষের ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়। একই ক্যাম্পে থাকা নরসিংদীর লিমন দত্ত ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের তরুণ রিয়াদ রশীদের মৃত্যুর খবর জানানোর পাশাপাশি আবদুর রহিমের মৃত্যুর বিষয়টিও পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। পরে বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

রহিমের বাবা আজিজুল হক জানান, ২০১৪ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর পরিবারের অভাব দূর করতে ঋণ ও জমি বন্ধক রেখে ২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরে যান রহিম। সেখানে সাত বছর ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার পর দেশে ফেরেন। পরে ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়ায় যান। পরিবার ধারণা করেছিল, সেখানেও তিনি আগের মতোই ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, কিছুদিন পর রহিম অনিয়মিতভাবে টাকা পাঠাতে শুরু করেন। তিন মাস আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন চাকরির কথা বলে পরিবারের কাছ থেকে আরও তিন লাখ টাকা নেন। পরে জানা যায়, রাশিয়ান সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ শেষে ১ মে তিনি কর্মস্থলে যোগ দেন এবং পরদিনই ড্রোন হামলায় নিহত হন।

ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়া বাবা আজিজুল হক বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তারা কিছুই জানতেন না। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। এখন সরকারের কাছে তার একটাই দাবি ছেলের মরদেহ যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

এদিকে, আবদুর রহিমের মৃত্যুর খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে তার বাড়িতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম সোহাগ এবং ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হাসান। এ সময় স্বজনরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা দেওয়ার দাবি জানান।

সংসদ সদস্য কামরুল হাসান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে পরিবারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এনএফ৭১/একে



বিষয়:



Top