কাল শুরু পুলিশ সপ্তাহ, রাজারবাগে থাকছেন প্রধানমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ মে ২০২৬, ০৫:২৯ এএম
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল রোববার থেকে শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে চারদিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে ১০ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত।
রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে পুলিশ সপ্তাহ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। এসময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, একটি দেশের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অনেকাংশে পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে অপরাধের ধরন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভুয়া ভিডিও প্রযুক্তি, সাইবার অপরাধ, আর্থিক প্রতারণা, জঙ্গিবাদ ও মানবপাচারের মতো অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশকে আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি বাহিনীর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার নিশ্চিতের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হবে। তাই পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, প্রতিটি পুলিশ সদস্যকে মানুষের আস্থা ও সেবার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে। ভুক্তভোগীদের যথাযথ আইনি সহায়তা নিশ্চিত এবং নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পুলিশকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। জনগণের পুলিশ হিসেবে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্ব দেবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে সাহসিকতা, বীরত্ব, অপরাধ দমন, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, সততা ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন পদক প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের হাতে পদক তুলে দেবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকগুলোতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপও সাজানো হবে বিশেষভাবে।
পুলিশ সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে কল্যাণ প্যারেড, নারী কল্যাণ সমিতির স্টল পরিদর্শন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সম্মেলন, পুরস্কার বিতরণী এবং বিভিন্ন কর্ম অধিবেশন। এসব অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম মূল্যায়নের পাশাপাশি আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
আগামী ১৩ মে পুলিশ সপ্তাহের সমাপ্তি হবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
