বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার নীতি সরকারের নয়—অতীতেও ছিল না, এখনও নেই।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিচিত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার।” ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে—এটাই সরকারের মূলনীতি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বে নানা ধর্ম রয়েছে এবং প্রতিটি ধর্মই মানবকল্যাণের কথা বলে। বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের পঞ্চশীল নীতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব নীতিতে হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলার পাশাপাশি নাগরিকরা নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সমাজ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সবাই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের ঐক্য। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সবাই মিলেই এ দেশ স্বাধীন করেছে। তাই বাংলাদেশ সবার এখানে বিভেদের কোনো স্থান নেই।
‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই দর্শনই দেশের সকল ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সক্ষম। এ কারণে কাউকে নিজেকে সংখ্যালঘু মনে না করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।