সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল ও পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৯ এএম
সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, বিশেষ দল বা পরিবারের সম্পদ নয়; এটি রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর বিশেষ দরবারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই সেনাবাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। তিনি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দেশের স্বার্থে কাজ করতে বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি অতীতে সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টার কঠোর সমালোচনা করেন। বিশেষ করে বিডিআর বিদ্রোহ তথা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই মর্মান্তিক ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে সেনাবাহিনীকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছিল। পরবর্তীতেও রাজনৈতিক স্বার্থে বাহিনীকে বিতর্কে জড়ানোর চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনী ধৈর্য ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনসহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনী আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার সময় থেকেই বাহিনীতে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা মনোভাবের ভিত্তি গড়ে ওঠে। এই ধারা অব্যাহত রাখা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, একটি ঐক্যবদ্ধ ও দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বিশ্বের কোনো শক্তিই বাংলাদেশকে পরাজিত করতে পারবে না।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ অর্জন দেশের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বড় সম্মান বয়ে এনেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে এই সাফল্য বৈশ্বিক পরিসরে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিল এবং ভবিষ্যতে তা আরও সম্প্রসারিত হবে।
শুধু সশস্ত্র বাহিনী নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতে আমূল সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘জুলাই সনদ’ কার্যকর করার ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান তিনি।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
