জ্বালানি খাতে মাসে আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার
নিউজফ্ল্যাশ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৮ পিএম
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রতি মাসে প্রায় আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে সরকারকে এই ভর্তুকির বোঝা বহন করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এর প্রকৃত মূল্য প্রায় ১৫৫ টাকা হওয়া উচিত। এ কারণে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে জনমনে উদ্বেগ না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে কোনো ধরনের জ্বালানির ঘাটতি নেই। অযথা মজুত বা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। নিয়মিত সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করলে সরবরাহে সমস্যা হবে না।
তদারকি কার্যক্রম জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, শুধু একদিনেই সারা দেশে ৩৬১টি অভিযান চালানো হয়েছে। এতে ১৯২টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ৫ লাখ ৭ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দুইজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭ হাজার ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২৪৭ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৬২১ লিটার অকটেন এবং ৮০ হাজার ৩৭৪ লিটার পেট্রোলসহ মোট ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার জ্বালানি উদ্ধার হয়েছে।
বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি জানান, দেশে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১৪৩ টন ডিজেল, ৯ হাজার ৫৬৯ টন অকটেন এবং ১ হাজার ৬৮২ টন পেট্রোল মজুদ রয়েছে। নিয়মিত আমদানি অব্যাহত থাকায় অন্তত আগামী দুই মাস অকটেন ও পেট্রোলের কোনো সংকট হবে না।
অবৈধ মজুতের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনএফ৭১/একে
বিষয়:
